স্টাফ রিপোর্টার:
বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভিসা ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হয়েছেন, কেউ জমি বিক্রি করেছেন, কেউ ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যবসার সূত্রে বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে বোরহান উদ্দিন দুবাইয়ে উচ্চ বেতনের চাকরির ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক কর্মীর পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন এবং প্রতিটি ভিসার জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং এবং নগদ লেনদেনের মাধ্যমে মোট প্রায় ১৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত। কিন্তু অর্থ গ্রহণের পর তিনি কয়েকটি ভিসা প্রদান করলেও তার মধ্যে একাধিক ভিসা জাল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকটি জাল ভিসার অনুমোদনপত্র (অ্যাপ্রুভাল) সরবরাহ করা হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত দুইজন কর্মীকে দুবাই পাঠালেও সেখানে তাদের জন্য কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেননি। ফলে বিদেশে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা। বিষয়টি জানাতে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অভিযুক্ত ফোন রিসিভ না করে আত্মগোপনে চলে যান।
জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগে আরও বলেন, প্রায় আট মাস পর তিনি জানতে পারেন বোরহান উদ্দিন দেশে অবস্থান করছেন। পরে তার বাড়িতে গিয়ে পাওনা অর্থ ফেরত ও বিদেশে পাঠানো কর্মীদের সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করলে অভিযুক্ত জমি বিক্রি করে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এরপর আবারও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এছাড়া পাওনা টাকা দাবি করলে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া ভিসা সরবরাহ এবং প্রতারণার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তবে তার প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, “বিদেশে চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। অনেক পরিবার জমিজমা বিক্রি করে টাকা দিয়েছে। এখন তারা পথে বসেছে। আমরা প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগে উত্থাপিত তথ্য-প্রমাণ, ব্যাংক লেনদেনের কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হতে পারে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্নকে পুঁজি করে যদি কোনো প্রতারক চক্র মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে, তবে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভিসার নামে কোটি টাকার প্রতারণা চক্র: বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নিঃস্ব বহু পরিবার
