দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।
পটুয়াখালী বাউফল উপজেলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকা প্রায় ২০০টি কার্ড পৌরসভা এলাকা থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্হানীয় কয়েকজন বড় নামধারী সাংবাদিক নিজেদের ও স্বজনের নামে এসব কার্ড দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্হানীয় সুএে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভা এলাকায় প্রকৃত অসহায় ও নিজ আয়ের মানুষের নামে বরাদ্দ থাকা বিভিন্ন ভাতা ও খাদ্য সহায়তার কার্ড হঠাৎ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানান্তর করা হয়।এতে পৌর এলাকার অনেক প্রকৃত সুবিধাভোগী তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি,প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এসব কার্ড নিজেদের নামে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের নামে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।তারা অভিযোগ করেন,তালিকা প্রনয়নের সময় স্বচ্ছতা বর্জায় রাখা হয়নি এবং প্রকৃত দরিদ্রদের পরিবর্তনে সুবিধাভেগীর তালিকায় যুক্ত হয়েছেন প্রভাবশালী মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্হানীয় বাসিন্দা জানায়,যারা সমাজে স্বচ্ছল হিসেবে পরিচিত তারাই এখন দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ কার্ড ব্যবহার করেছেন।এতে প্রকৃত গরীব মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ দিকে অভিযোগের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্হানীয় প্রশাসনের একটি সুএ জানিয়েছে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীর তালিকা যাচাই -বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকৃত অসহায়দের অধিকার নিশ্চিত করতে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্হানীয় সচেতন মহল।
অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্হা গ্রহনেরও দাবি জানিয়েছে তারা।
২৫/০৫/২০২৬
