স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের তেলীপাড়ায় অবস্থিত জেমস সোয়েটার লিমিটেড-এর পরিচালক মো. সানিয়াতের বিরুদ্ধে অভিনব কৌশলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য গ্রহণের পর বিল পরিশোধ না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রেডিমেড গার্মেন্টসের অর্ডার দিয়ে সময়মতো শিপমেন্ট গ্রহণের পর তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে পাওনা অর্থ পরিশোধ এড়িয়ে যান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং ভুক্তভোগীদের হয়রানির মুখে ফেলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের কারখানা গাজীপুরের তেলীপাড়ায় অবস্থিত এবং প্রধান কার্যালয় ঢাকার তুরাগের দিয়াবাড়ী প্যালেস, বাসা নং-১০, রোড নং-২, ওয়ার্ড-৫৩, হাজী আরব আলী মেম্বার রোডে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (Managing Director) হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ড. মোস্তাক হোসেন, পরিচালক নুরুল ইসলাম এবং পরিচালক মো. সানিয়াত।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিল পরিশোধের নির্ধারিত সময় অতিক্রম হওয়ার পর পরিচালক মো. সানিয়াত তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন বা কল রিসিভ করেন না। এমনকি কারখানা বা প্রধান কার্যালয়ে গিয়েও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে একাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, আভা ফ্যাশন নামে একটি বায়িং হাউজের প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং রবিউল নামে এক ব্যবসায়ীর প্রায় ৭ লাখ টাকা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা বলেন, পাওনা অর্থ না পেয়ে তারা চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের দাবি, যদি শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে অর্ডার দিয়ে পণ্য গ্রহণ করে অর্থ পরিশোধ না করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তদন্তসাপেক্ষে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ বিষয়ে জেমস সোয়েটার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোস্তাক হোসেন, পরিচালক নুরুল ইসলাম এবং পরিচালক মো. সানিয়াতের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ভুক্তভোগীরা জানান, তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন এবং গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন। তাদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, পাওনা অর্থ দ্রুত আদায় এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
শিপমেন্ট নেওয়ার পর বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ: জেমস সোয়েটার লি.-এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
