স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা:
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে আলোচিত নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত লেদুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৩২টি মামলা রয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ১ জুলাই ২০২৬ রাজধানীর আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষের একপর্যায়ে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন লেদু হাসান। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামির আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানা যায়, লেদু হাসানই মূল হত্যাকারী পারভেজের কাছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন বলে র্যাব দাবি করেছে।
র্যাব-২ জানায়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে মোহাম্মদপুর থানাধীন মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মনোয়ার হোসেন লেদু হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, লেদু হাসানের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ ৩২টি মামলা রয়েছে। ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। এছাড়া ২০২১ সালে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ তাকে র্যাব-৪ গ্রেপ্তার করে। একটি অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে বলেও জানানো হয়।
র্যাব আরও জানায়, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।
র্যাবের পিসিপিআর (PCPR) যাচাইয়ে দেখা যায়, মনোয়ার হোসেন ওরফে লেদু হাসানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১০টি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ২টি এবং দ্রুত বিচার আইনে ১টি মামলা রয়েছে। আদাবর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৮টি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৬টি, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ২টি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১টি মামলা এবং আরও একটি অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দারুস সালাম থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
