নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা ভূমি অফিসকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা কেটে পুকুর খনন ও ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি খাজনা আদায়ে অনিয়ম, রশিদে কম দেখিয়ে বেশি টাকা নেওয়া এবং ভূমি অফিসকেন্দ্রিক দালালচক্রের প্রভাবের অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় ভূমি প্রশাসনের তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
মিঠাপুকুর উপজেলার বুজরুক সন্তোষপুর (মোগলকোট) এলাকায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তা কেটে পুকুর খনন ও ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মোছা. রওশনারা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধাপে ধাপে রাস্তা দখল করে কেটে ফেলা হয়। পরে সেখানে পুকুর খনন ও প্রাচীর নির্মাণ করা হলে কয়েকটি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের অন্যের জমির আইল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি জরিপের সময় তহশিলদার, সার্ভেয়ারসহ সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি জরিপের কাজে ব্যবহৃত পরিমাপের ফিতা কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কর্মকর্তারা নিরাপত্তার কারণে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়কে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাস্তা কেটে পুকুর খনন ও প্রাচীর নির্মাণের ছবি-ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ প্রশাসনের কাছে দেওয়া হলেও প্রতিকার মেলেনি বলে দাবি তাঁদের।
এ ঘটনায় মিঠাপুকুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামানের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে এম কে নিউজ ও ‘জীম’ নামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার ও মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে ভূমিকা রাখার অভিযোগও করা হয়েছে। এবিষয়ে এসি ল্যান্ডকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন ধরেনি।
মিঠাপুকুর ভূমি অফিস ঘিরে একের পর এক অভিযোগ রাস্তা কেটে পুকুর-প্রাচীর, খাজনায় অনিয়ম ও দালালচক্রের প্রভাবের অভিযোগ
