মরহুম হাফেজ আতাউল্লাহর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা, পাশে উপজেলা প্রশাসন
জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মাদ আতাউল্লাহ গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় কালে সেজদারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার আকস্মিক ও হৃদয় বিদারক মৃত্যুতে পরিবার,মুসল্লি ও স্হানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মরহুম হাফেজ মোহাম্মদ আতাউল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সুনামের সঙ্গে শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।পাশাপাশি তিনি স্হানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও করতেন। সামান্য উপার্জন দিয়ে স্ত্রী, দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান-প্রায় আড়াই বছর বয়সী পুএ ও ছয় মাস বয়সী কন্যা- এবং মাকে নিয়ে কষ্টসাধ্য জীবনযাপন করতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।
মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসন, পটুয়াখালী শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। সন্মানিত জেলা প্রশাসক ড,মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর আহবানে ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মরহুমের পরিবারের সদস্যরা পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়।
এ ছারা মরহুমের পরিবারের প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্টানের পক্ষ থেকে প্রদও আর্থিক সহায়তা যেন স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্হাপনার মাধ্যমে পরিবারের কাছে পৌঁছে সে লক্ষ্যে দুমকি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পাশাপাশি মরহুমের স্ত্রীকে বিধবা ভাতার আওতায় আনা, তাকে সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা করা এবং পরিবারের বসতঘর সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণের জন্যও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মরহুম হাফেজ মোহাম্মদ আতাউল্লাহর অসহায় পরিবারের পাশে প্রশাসনের এ মানবিক উদ্যােগ স্হানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর পরিবারের দুর্দিনে সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিওবানদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে – এমন প্রত্যাশা করেছেন স্হানীয় এলাকাবাসী।
মহান আল্লাহ মরহুম হাফেজ মোহাম্মদ আতাউল্লাহকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন। আমিন।
