নিজস্ব প্রতিবেদক:পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিককে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। পরে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের পরিচয় ও কর্মরত প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাইয়ের পর বিষয়টি নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। ক্রাইম পেট্রোল ইনভেস্টিগেশন-এর পটুয়াখালী প্রতিনিধি সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য সেখানে গেলে তার সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেট সাজন বশাক তাকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং কয়েকজন সাংবাদিকের মাধ্যমে তাকে হেনস্তার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ সময় রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি তার প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রাইম পেট্রোল ইনভেস্টিগেশনের বৈধতা ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের পরিচয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হলে তা ম্যাজিস্ট্রেট সাজন বশাকের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের কাছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আবেদনের রিসিভ কপির চিঠি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি, এসবি প্রধান কর্তৃক অনাপত্তি জ্ঞাপনের চিঠি ট্রেড লাইসেন্স, সরকারি রেজিস্ট্রেশন টিআইএন সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন নথি রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের ডি.এ. (ডিক্লারেশন/প্রযোজ্য নিবন্ধন) নম্বরের বিষয়ে বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়া চলমান বলে জানানো হয়। প্রয়োজন হলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্প্রচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম স্যারের নিকট ফাইল জমা আছে মর্মে প্রতিষ্ঠান ও সম্পাদক-প্রকাশকের বিষয়ে তথ্য যাচাই করার কথা জানানো হয়।
কাগজপত্র পর্যালোচনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে নিয়ে তৈরি হওয়া হেনস্তার পরিস্থিতি আর না বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মহলের অনেকে বলছেন, কোনো সাংবাদিকের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেটি যাচাই-বাছাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনসম্মতভাবে নিরসন করা উচিত। প্রমাণ ছাড়া কাউকে প্রকাশ্যে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ হিসেবে প্রচার করলে তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কারও সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা ক্ষতিকর বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে এবং ৫০০ ধারায় এর শাস্তির বিধান রয়েছে।
সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজন অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং নীতি-নৈতিকতার চর্চা। দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক চাপ বা বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে তার পরিচয় নিয়ে প্রকাশ্যে অপপ্রচার না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করাই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
