জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালীঃ
পটুয়াখালীর দুমকির এক যুবককে অপহরণ করে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের এক ডিলার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী জাহিদ হোসাইন দাবি করেছেন, তাকে বেঁধে রেখে নির্যাতন করে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়।
জাহিদ হোসাইন জানান, তিনি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে একটি কোম্পানিতে ডিএসআর পদে নারায়ণগঞ্জে চাকরি নেন।
চাকরিতে যোগদানের সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন কাগজপত্র, অলিখিত ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। গত ২ আগস্ট প্রথম কর্মদিবসে পণ্যসহ একটি ভ্যান নিয়ে ডেলিভারিতে বের হলে দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়।
তিনি বলেন, মোবাইল না থাকায় ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এ অবস্থায় ভ্যান জমা দিতে দেরি হওয়ায় ডিলার তাকে সন্দেহ করে। পরদিন রাতে ডিলারের লোকজন তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে অফিসে আটকে রাখে এবং দফায় দফায় মারধর করে। এ সময় তার বাবার কাছে মোবাইলে কান্নার শব্দ শোনিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্যাতনের পাশাপাশি সাদা কাগজে প্রায় ৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ধার নেওয়ার মিথ্যা স্বীকারোক্তিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তাকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হয় এবং ভিডিও ধারণ করে মামলা না করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ টাকা পাঠানো হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তার কাছে থাকা নগদ অর্থ ও একটি দামি মোবাইল রেখে দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
জাহিদ আরও বলেন, পরে তার মিথ্যা স্বীকারোক্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিলার সাইফুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন।
“তারিখ” ১১/০৮/২০২৬
