নিজস্ব প্রতিবেদক
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৫ নম্বর বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ জিয়াউর রহমান, যিনি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত, আইডি নং ২২৪৩৩, একটি হত্যা চেষ্টা ও হামলার মামলায় আদালতের আদেশে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সাংবাদিক মোঃ মিজানুর রহমান মিলনের জমি দখলের উদ্দেশ্যে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, সাংবাদিকের স্ত্রী মোছাঃ আফরোজা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও হাতে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর সাংবাদিক মোঃ মিজানুর রহমান মিলন বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২০২৬ সালের ১২ জুলাই অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে, অভিযোগের ধারা অজামিনযোগ্য হওয়ায় আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
এদিকে সাংবাদিকের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঢাকা উত্তর জোনাল অধিনায়কের কাছেও পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সাংবাদিকের সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্রকে ব্যবহার করে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিক পরিবারের মানববন্ধনে হামলার চেষ্টা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কয়েকজনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
সাংবাদিকের দাবি, তার বৃদ্ধা মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর হামলার ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত সংরক্ষিত রয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সাংবাদিক মহল এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্তকরণ, অভিযোগে উল্লিখিত মাদকচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলার পেছনে কারা প্রভাব বিস্তার করেছে তা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে।
