শিব ব্রত চক্রবর্ত্তী
****************************
ফেনী-পরশুরাম সড়কে সন্ধ্যা হলেই ভাড়া দ্বিগুণ, রাত হলে তা বেড়ে যায় তিনগুণ, আর গভীর রাতে পাঁচগুণ। জেলার অধিকাংশ সড়কে রাতে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে এ সুযোগ ব্যবহার করছে সিএনজি অটো এবং ইজিবাইক চালকরা। বছরের পর বছর ধরে যাত্রী সাধারণকে জিম্মি করে একশ্রেণীর চালকেরা এমন নৈরাজ্য চালিয়ে এলেও এ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপই নেয়া হচ্ছে না। এতে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে মনগড়া ভাড়া আদায় করে এসব সিএনজি ও ইজিবাইক চালকরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফেনী সহ পরশুরামের অধিকাংশ সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। রাতের সড়কে এমন নৈরাজ্য যেন দেখার কেউ নেই। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, রাত ৮টার পর থেকে ফেনী-পরশুরাম রোডের বাস টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম থেকে দুয়েকটি বাস এলেও এতে লোকাল কোনো যাত্রীর ঠাঁই হয় না। তাই রাত ৮টার পর জেলার সবকটি সড়ক-মহাসড়কে বাধ্য হয়ে সিএনজি-অটো ও ইজিবাইকের ওপর নির্ভর করতে হয় যাত্রী সাধারণকে। আর এ সুযোগে এসব বাহনের চালকরা ইচ্ছেমতো যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ কোনো কোনো সময় পাঁচগুণের বেশি ভাড়া আদায় করে নেয়। বছরের পর বছর এসব যাত্রী এমন জিম্মি দশায় থাকলেও এ নিয়ে কোনো মহলেরই কোনো মাথাব্যথা নেই। এদিকে এসব বাহনের চালকরা ভাড়া দ্বিগুণ-পাঁচগুণ রেখেই ক্ষান্ত হয় না কোনো কোনো সময় ডাকাত সেজে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয়। অভিযোগ রয়েছে রাত ৮টার পর ফেনী থেকে পরশুরাম ,ফুলগাজীসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সবকটি সড়কে সিএনজি-অটো ও ইজিবাইকচালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। রাত ১১টার পরে এসব সড়কে কোনো যাত্রী সাধারণ চলাচল করতে চাইলে ওইসব বাহনের চালকরা অগ্নিমূর্তি ধারণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে প্রায়ই কথাকাটাকাটি সহ হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। গভীর রাতে যাত্রীদের মক্কেল বলেও আখ্যা দিয়ে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করে নিচ্ছে। আবার কোনো কোনো সময় ডাকাত চক্রের সঙ্গে আঁতাত করে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। জেলার অভ্যন্তরীণ এসব সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া ঝড়-বৃষ্টি হলে এসব যানবাহনের চালকের ডিমান্ড আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তখন চালকরা যাত্রীদের মুখের দিকে না তাকিয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন বলে জানা গেছে। এসব চালক প্রায়ই যাত্রী সাধারণের সঙ্গে অসদাচরণসহ তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। বেশকিছু যাত্রীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, পরশুরাম থেকে ফেনী বা ফেনী থেকে পরশুরামের দিনের ভাড়া ৫০ টাকা কিন্তু রাত ৮টার পরই তা দ্বিগুণ হয়ে যায়। আর রাত গভীর হলে ভাড়া আরও বেড়ে যায়। ফেনী থেকে পরশুরামের ভাড়া জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা কিন্তু রাতে জনপ্রতি ৮০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত গড়ায়। এসব স্ট্যান্ডের কিছু চালক রাতে গাড়ি চালায় আর নিশাচরের মতো বসে থাকে কখন ‘মক্কেল’ আসবে আর তার পকেট কেটে রাখবে। জেলার সবকটি সড়কেই রাতে এমন জিম্মি দশা চলছে। রাতে এসব চালকের দৌরাত্ম্য কমাতে প্রশাসনের একান্ত উদ্যোগ দাবি যাত্রী সাধারণের। এদিকে
সিএনজি স্ট্যান্ডে বিভিন্ন স্টপেজে কত টাকা ভাড়া দিতে হবে এমন একটি তালিকা সংবলিত সাইনবোর্ড প্রশাসন টানিয়ে দিলেও এখন সেই সাইনবোর্ড উধাও হয়ে গিয়েছে। আর প্রশাসন ওই সাইনবোর্ড টানিয়ে দিলেও তা ছিলো শুধু লোক দেখানো । কারণ যদি চালকরা সাইনবোর্ডটিকে অনুসরণ করত তাহলে ওই সাইনবোর্ড উধাও হতো না এবং সন্ধ্যার পর যাত্রীদের এতো বেশি ভাড়া গুণতে হতো না। এ প্রেক্ষিতে ফেনী ও পরশুরাম সিএনজি সমিতির সভাপতি কথা বলতে নারাজ ।এ বিষয়ে ফেনী জেলা প্রশাসক সুত্র জানায়, প্রতিটি সড়কেই ভাড়া নির্ধারণ করা আছে। নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যেসব পরিবহন সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী সাধারণকে জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে ভুক্তভোগীরা তাদের বিরুদ্ধে নিকটস্থ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় ওই সুত্র।
ফেনী -পরশুরাম সড়ক সন্ধ্যা হলেই ভাড়া দ্বিগুণ
