দুমকি(পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সাতানী কমিউনিটি ক্লিনিকে সরকারি বিনামূল্যে ঔষুধ ও স্বাস্থ্যসেবার বিনিময়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) কাজী ফারিয়া জাহানের বিরুদ্ধে ওষুধ বিক্রি নিয়মবহির্ভূতভাবে স্যালাইনপুশ ও রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করছেন স্হানীয়রা।
সরজমিনে দেখাযায়,সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ক্লিনিকে থাকার কথা থাকলেও সিএইচসিপি কাজী ফারিয়া জাহান প্রায়ই দেড় থেকে দুই ঘন্টা দেরিতে আসেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগে চলে যান। ক্লিনিকে চিকৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ,সরকারি ঔষুধ পেতে তাদের টাকা দিতে হয়।ওষুধের পরিমাণে উপর ভিত্তি করে টাকার অঙ্ক নির্ধারিত হয়।
এছারা ওজন মাপলে ১০টাকা রক্তচাপ (বিপি) মাপলে ১০টাকা এবং নেবুলাইজার ব্যবহারের জন্য ৫০টাকা করে নিচ্ছেন এই স্বাস্থ্যকর্মী। ক্লিনিকে বসে নিয়মবহির্ভূতভাবে রোগীদের স্যালাইন পুশ করে -৩০০ থেকে -৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সেবানিতে আসা রেনু বেগম বলেন,আজ ২০টাকা নিয়ে এসেছি ২০টাকার ওষুধ দিছে। আর টাকা ছিলনা বলে প্রেসার মাপতে পারিনি।প্রেসার মাপলে ১০টাকা দিতে হয়। সুমি আক্তার নামের আরেকজন বলেন, টাকা দিয়ে ওষুধ নিতে হয়। ১পাতা ক্যালসিয়াম,ভিটামিন, ও কাশির ওষুধসহ কিছু স্যালাইন ৭০টাকা দিয়ে নিয়েছি।
ক্লিনিক এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, প্রতিদিন ৫০-থেকে ৬০জন রুগী আসে। প্রায় সবার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।ভিতরে বসে স্যালাইন দিলে ৩০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সিএইচসিপি কাজী ফারিয়া জাহান ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজী হয়নি। তবে দেরিতে অফিসে আসার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দাবি করেন,তিনি ভালো চিকিৎসা দেন। অনিয়মের প্রমাণের বিষয় জানতে চাইলে তিনি কোন সদূওর দিতে পারেননি। উল্টো হুমকি দিয়ে বলেন,নিউজ করলে তিনি সেবা কমিয়ে দিবেন।
এই বিষয়ে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন,কমিউনিটি ক্লিনিকে বসে টাকা নেওয়ার কোন বিধান নেই।এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেওয়া হবে। ক্লিনিকে স্যালাইন দেওয়ার সুযোগ নেই যদি তিনি সেটা করে থাকেন তবে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
১৯/০৫/২০২৬
