স্টাফ রিপোটার:
গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে ‘বদলি বাণিজ্য’, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত বিভিন্ন নথিপত্র এবং স্ট্যাম্পে সম্পাদিত চুক্তিনামা থেকে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
চুক্তিনামায় কোটি টাকার লেনদেন
প্রাপ্ত একটি ‘বদলীর চুক্তিনামায়’ দেখা যায়, মো. আল আমিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিচারক জিয়াদুর রহমান গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি হয়ে আসার বিষয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি করেন। চুক্তির শর্তানুযায়ী:
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি হয়ে আসার পর ২য় পক্ষ (জিয়াদুর রহমান) ১ম পক্ষকে ৫০ কোটি টাকা প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন।
চুক্তি সম্পাদনের পরপরই সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ২০ কোটি টাকার চেক প্রদানের উল্লেখ রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হলে বা চুক্তি ভঙ্গ হলে বিশাল অংকের অর্থ জরিমানাসহ ফেরত দেওয়ার শর্তও সেখানে বিদ্যমান।
একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এ ধরনের আর্থিক চুক্তিনামা আইন ও নৈতিকতার চরম পরিপন্থী বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
নথিপত্রে দাবি করা হয়েছে, জিয়াদুর রহমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বড় ভাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুবলীগের সহ-সভাপতি এবং বোন জামাতা সাবেক সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন মঈন। অভিযোগ রয়েছে, এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি ঢাকার সিএমএম কোর্টে তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত ৫ জন বিচারককে পদায়ন করেছেন। ছাত্রলীগে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের বিচারক হিসেবে নিয়োগ ও সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের বিবরণ
আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক অভিযোগপত্রে তার ও তার স্ত্রীর নামে থাকা বিপুল সম্পদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে:
ঢাকার গুলশানে স্ত্রীর নামে ৯ কোটি টাকা মূল্যের ২টি ফ্ল্যাট।
উত্তরা মডেল টাউনে ২২ কোটি টাকা মূল্যের ৬ তলা ভবন।
আশুলিয়ায় ১৮ কোটি টাকা মূল্যের ৩ বিঘা জমি।
কুমিল্লায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিলাসবহুল বাড়ি।
ধানমন্ডিতে স্ত্রীর ভাইয়ের নামে ৫ কোটি টাকার ফ্ল্যাট এবং বনানীতে স্ত্রীর নামে ৩২ কোটি টাকার ফ্ল্যাট।
সব মিলিয়ে তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি ও অনিয়ম
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাবে বিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের জামিন না মঞ্জুর করার মাধ্যমে তিনি বিচার ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছেন। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি যে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, তা তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
বর্তমানে এই বিচারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
