🔴 ব্রেকিং
বাউফলে ভূমি অফিসের মসজিদ অবৈধ দখলে,সরকারি নির্দেশনা অমান্য -প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ঢাকার মোহাম্মদপুরে বাদশা হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত লেদু হাসান গ্রেপ্তার ফেনী -পরশুরাম সড়ক সন্ধ্যা হলেই ভাড়া দ্বিগুণ গোপালগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: মাদকসহ গ্রেপ্তার ২, কারাদণ্ড ও জরিমানা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দাফনের আড়াই বছর পর কবর থেকে মালয়েশিয়া প্রবাসীর লাশ উত্তোলন পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে অভিযান: চুরি ছিনতাই ও মাদক সেবনের অভিযোগে ৩ জন আটক কালিয়াকৈরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাবে অতিষ্ঠ মানুষের জনজীবন ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারকেল চাষে ডুমুরিয়ায় বিপ্লব: আড়াই বছরেই ফলন, বছরে মিলছে ৩৫০ নারকেল নড়াইলের লোহাগড়ায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগে স্ত্রী আটক চট্টগ্রামে শিশু মাহফুজ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড, বর্ষা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

খাল পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণে চসিকের দুই প্রকল্প, ব্যয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা

👤 🕐 ✏️ আপডেট: 👁 34 বার পড়া হয়েছে 4 মিনিট পড়তে হবে
খাল পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণে চসিকের দুই প্রকল্প, ব্যয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে খাল পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক দুটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। প্রকল্প দুটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যে ‘আওয়ার পালস’ নামে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
চসিক সূত্র জানায়, বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৬ খাল নিয়ে চলমান মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ হলে খালগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে এসব খালের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে চসিকের। এ কারণে ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প এবং মেগা প্রকল্পের বাইরে থাকা ২১টি খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের জন্য আরেকটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ৩৬ খাল রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২২ কোটি টাকা এবং ২১ খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। গতকাল সিটি মেয়রের কাছে প্রকল্প দুটির বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘আওয়ার পালস’।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পে কিছু বিষয় সংযোজনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, “মেগা প্রকল্পের বাইরে শুধু ২১টি নয়, আরো অনেক খাল রয়েছে। সংখ্যাটি ৪০ থেকে ৫০টির মতো হতে পারে। সম্প্রতি চান্দগাঁও এলাকায় একটি মৃত খাল দেখেছি, যার ওপর অনেক প্লট গড়ে উঠেছে। এ ধরনের খালও প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে। ফলে প্রকল্পের ব্যয় বাড়তে পারে।”
৩৬ খাল রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বর্তমানে সেনাবাহিনী খালগুলোতে কাজ করছে। প্রকল্প শেষ হলে এগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তখন নিয়মিত খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে চসিককে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া খালগুলোকে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
২১ খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পঃ
২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সভায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার সিটি করপোরেশনগুলোর জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম পর্যালোচনার সময় ২১টি খাল নিয়ে পৃথক প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
এরপর একই বছরের ২৩ আগস্ট সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করে চসিক। ওয়াশো ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে এ কাজের দায়িত্ব দেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের শুরুতে কাজ করতে অপারগতা জানায়। পরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা সিইজিআইএসও একইভাবে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ডিপিপি প্রণয়নে চীনের পাওয়ার চায়নার সহযোগিতা চায় চসিক। এ বিষয়ে রাজধানীতে প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠকও করেন মেয়র। সর্বশেষ ‘আওয়ার পালস’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করে।
মেগা প্রকল্পের বাইরে থাকা উল্লেখযোগ্য খালের মধ্যে রয়েছে কাটা খাল, কৃষ্ণ খাল, কুয়াইশ খাল, যুগীর খোলা খাল, ফরেস্ট খাল, বাইজ্জা খাল, চট্টেশ্বরী খাল, রামপুর খাল, বালুখালী খাল, বারিঙ্গাছড়া খাল ও ধামাইর খালসহ বিভিন্ন সংযুক্ত খাল।
৩৬ খাল রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পঃ
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্প। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় রয়েছে ৩৬টি খাল।
প্রস্তাবিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে ৩২২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ‘আওয়ার পালস’-এর প্রতিবেদনে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে খালগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা নিরূপণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে (১-৬ মাস) জরুরি ভিত্তিতে খাল থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণ এবং ডিজিটাল ইনভেন্টরি প্রস্তুত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে (৬-২৪ মাস) খালের কাঠামোগত উন্নয়ন, ইউ-ওয়াল নির্মাণ এবং নাগরিক অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে। তৃতীয় ধাপে (২-৫ বছর) আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা, বন্যা পূর্বাভাস ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

শেয়ার করুন: 📘 Facebook 𝕏 Twitter
Mijanur Rahman
Mijanur Rahman
ক্রাইম পেট্রোল নিউজের সংবাদদাতা।
সব লেখা দেখুন →

💬 মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

f 📲 𝕏