ক্রাইম রিপোর্টার
ক্রাইমপেট্রোল ইনভেস্টিগেশন
জেলা প্রতিনিধি-গোপালগঞ্জ।
**************
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মান্দারতলা ইসলামাবাদ গ্রামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ৬৫০ পিস ইয়াবা ও ৬ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার এবং দুই ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, আটক দুই ব্যক্তির মধ্যেই কি সীমাবদ্ধ এই মাদক ব্যাবসা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড়ো কোনো চক্র?
ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মান্দারতলা ইসলামাবাদ গ্রামের একটি কক্ষ থেকে মো. মানিক মিয়া ও মো. সজীব খানকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৬৫০ পিস ইয়াবা ও ৬ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্যমতে, উদ্ধার হওয়া কক্ষটি কথিত মাদক ব্যবসায়ী মো. হাফিজুর রহমান বাঁধনের ব্যবহৃত কক্ষ। ডিবির দাবি, আটক দুই ব্যক্তি বাঁধনের সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা কম দামে ইয়াবা ও মদ সংগ্রহ করে স্থানীয়ভাবে বেশি দামে বিক্রি করতেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মান্দারতলা ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন বয়সি মানুষের সন্দেহজনক যাতায়াত স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। তবে ভয় ও সামাজিক চাপে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি থাকলে অনেক আগেই এসব কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হতো।
অভিযানের পর সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কথিত মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত মো. হাফিজুর রহমান বাঁধনের অবস্থান। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। তবে স্থানীয়দের মতে,যদি বাধন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যাবসা পরিচালনা করে থাকেন, তাহলে তার নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস এবং সহযোগীদের বিষয়ে গভীর তদন্ত প্রয়োজন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে,মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো সাধারণত এককভাবে কাজ করে না। তাদের সংগ্রহ, পরিবহন,সংরক্ষণ এবং খুচরা বিক্রয়ের জন্য পৃথক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকে। ফলে দুইজনকে আটকের মাধ্যমে পুরো চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।
উদ্ধার হওয়া ভারতীয় মদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।এসব মাদকদ্রব্য কীভাবে এলাকায় পৌঁছায়, কারা সরবরাহ করে এবং কোন রুট ব্যবহার করা হয়— তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ চেইন শনাক্ত করা না গেলে মাদক ব্যাবসা বন্ধ করা কঠিন।
ডিবি পুলিশের এসআই মো. হাসানুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও ভারতীয় মদসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক হাফিজুর রহমান বাধনকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজন গ্রেফতার হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, পুরো ঘটনার পেছনে আরও বড়ো নেটওয়ার্ক থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই শুধু গ্রেফতারেই সীমাবদ্ধ না থেকে মাদক সরবরাহকারী, অর্থায়নকারী ও স্থানীয় সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষজ্ঞদের মতে,মাদকের বিরুদ্ধে টেকসই সাফল্য পেতে হলে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম একযোগে পরিচালনা করতে হবে।
গোপালগঞ্জে ইয়াবা ও বিদেশি মদ উদ্ধার : গভীরে মাদক চক্রের শেকড়।
