মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টার:
একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য মুক্ত ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অপরিহার্য। সমাজের “চতুর্থ স্তম্ভ” হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকরা শুধু সংবাদকর্মী নন, তারা জাতির বিবেক। রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন একজন সাংবাদিক।
*একজন সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্বসমূহ:*
*সত্য ও তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া:*
সাংবাদিকের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো যেকোনো ঘটনার সঠিক, নিরপেক্ষ ও যাচাইকৃত তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে তুলে ধরা। গুজব, অপপ্রচার ও ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য প্রতিষ্ঠা করাই তার মূল লক্ষ্য।
*অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর:*
দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। প্রশ্নের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষমতাবানদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
*সমাজের অবহেলিত মানুষের মুখপাত্র হওয়া:*
দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু অধিকার, পরিবেশ দূষণসহ সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা। যাদের কথা কেউ শোনে না, তাদের কথা বলাই একজন সাংবাদিকের নৈতিক দায়িত্ব।
*জনসচেতনতা গড়ে তোলা:*
নির্বাচন, আইন-কানুন, নাগরিক অধিকার, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা। একটি সচেতন নাগরিক সমাজ গঠনে সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
*নৈতিকতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা:*
পেশাগত শৃঙ্খলা, গোপনীয়তা রক্ষা, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করা একজন আদর্শ সাংবাদিকের বৈশিষ্ট্য।
*সমাজে সাংবাদিকের ভূমিকা:*
সাংবাদিকরা সমাজের আয়না। তারা সমাজের ভালো-মন্দ দুটোই তুলে ধরেন। তাদের লেখনী ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সচেতন হয় এবং নীতি নির্ধারকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র কল্পনা করা যায় না। একজন সৎ ও সাহসী সাংবাদিক একটি জাতিকে সঠিক পথ দেখাতে পারে।
তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে, ন্যায়ের কথা বলে এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করাই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত সার্থকতা।
