শিব ব্রত চক্রবর্ত্তী
**************************
পরশুরাম উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলো ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। ফলে আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।
পরশুরাম বাজারের চলতি পথে প্রায় রাস্তার উপরেই গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। বাজার ও বাজারে অবস্থিত বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে এনে এইসব স্থানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে রাতদিন।ফলে সড়ক এবং সড়কের আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ।
দূষিত হচ্ছে এখানকার বাতাস। এ ছাড়া টানা বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা সেসব ময়লা-আবর্জনা ভেসে ছড়িয়ে পড়েছে সড়কের ওপরে । দুর্গন্ধে পথচারী, বসবাসরত আবাসিক এলাকার মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অফিসগামী মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সৃষ্টি হচ্ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি।
সরজমিনে দেখা যায়, পরশুরাম দক্ষিণ বাজারে খাদ্য গুদামের সামনে রাস্তার উপর এবং রেলক্রসিং বাইপাস সড়কের পাশে পৌরসভা কর্তৃক করা হয়েছে বর্জ্যের ভাগাড়।এসব ভাগাড় থেকে ময়লার দুর্গন্ধে হাঁটা চলা করা দুস্কর হয়ে পড়েছে। পথচারী সহ সকাল ও দুপুরে স্কুল কলেজ গামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
পথচারী অনিক বলেন,এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে অথবা গাড়িতে গেলে নাক মুখ চেপে ধরতে হয়। একটু বাতাস হলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
ইজি বাইক চালক সেলিম মিয়ার অভিযোগ, ময়লার ভাগাড়ে সারাদিন বিড়াল, কুকুর ও কাকের ভীড় লেগেই থাকে,ফলে ময়লা ছড়িয়ে যায় রাস্তায়। এতে চলাচলের সময় দূর্ঘটনার আশংকা থাকে। বৃষ্টি হলে পুরো রাস্তাই নোংরা পানিতে ভরে যায়।
পৌরসভার স্হানীয় বাসিন্দা আকবর জানান, পৌরসভা কতৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে এইসব স্থানে বর্জ্য ফেলে আসছে।আগে বর্জ্য ফেলার জন্য নদীর পাড়ে ফাঁকা জায়গা ছিলো, কিন্তু এখন তা রাস্তার পাশে ফেলার কারণে পুরোপুরি ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির পানির সাথে মিশে ময়লার নোংরা পানি মিশে যাচ্ছে বিভিন্ন পুকুরে।
পরশুরাম কলেজ ছাত্রী আকলিমা আক্তার বলেন,আমরা এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কলেজে যাই। এখানে এসে নাক চেপে ধরে রাস্তা পার হতে হয়। বৃষ্টি হলে অবস্থা আরো খারাপ হয়।
পরশুরাম পৌরসভা সুত্র জানায়, পৌর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই। অবিলম্বে স্হায়ী জায়গা চিহ্নিত করে এই সমস্যার সমাধান করা হবে।
এদিকে স্থানীয়রা বলেন, জনবসতির এত কাছাকাছি বর্জ্য ফেলা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে ।এতে শুধু দুর্গন্ধই নয় নানা রোগের জীবানু ছড়ানো সহ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্হায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ও জানায় পৌরসভার স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে দিনের পর দিন ময়লা জমে থাকার ফলে বৃষ্টির পানিতে এসব ময়লার স্তূপ ছড়িয়ে পড়ছে যেখানে সেখানে। সৃষ্টি হচ্ছে এডিস মশা ও মাছির আবাসস্থল। পরশুরাম বাজারে দিন দিন এ ময়লার ভাগাড়ের সংখ্যা বৃদ্ধিই পাচ্ছে। ফলে অলিগলিতে সৃষ্টি হওয়া ময়লা-আবর্জনার স্তূপের কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেছেন না পথচারীরা। সড়কের পাশে ছাড়াও হাটসহ বাজার ও হোটেল-রেস্টুরেন্টের ময়লা-আবর্জনা, অগণিত পলিথিন পরশুরাম বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কহুয়া নদীতে ফেলা হচ্ছে প্রতিদিন।ফলে নদীর পানি দুষন সহ নদী অনেকটা ভরাট হয়ে গেছে । ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যার কবলে পড়তে হচ্ছে এই পৌরসভা বাসীকে।
