নিজস্ব প্রতিনিধি:
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার এক পরিবারে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বাবার মৃত্যুর পর ইসলামী উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সকল ভাই-বোনের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করা হলেও এক বোন ও তার স্বামীর অব্যাহত জমি দখলের চেষ্টায় পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছে।
অভিযোগকারী জানান, প্রায় ১২-১৪ বছর আগে তাদের বাবা মারা যান। পরবর্তীতে দুই ভাই মিলে সকল বোনকে প্রাপ্য হিস্যা অনুযায়ী জমি বুঝিয়ে দেন। সে সময় নুরজাহান ও বড় বোন হালিমাকে রাস্তার পূর্ব পাশে বাড়ি করার জন্য জমি দেওয়া হয়। নুরজাহান সেখানে বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে মাটি ভরাটও করেন।
কিন্তু কয়েক মাস পর নুরজাহান পুনরায় বাড়ি করার জন্য নতুন করে জমি দাবি করেন। এ বিষয়ে দুই ভাই আপত্তি জানালে তিনি পূর্বে প্রাপ্ত জমি বড় বোনকে দিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তখন তাকে বড় বোনের কাছ থেকে জমি ফেরত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি অন্য বোনের জমির ওপর দাবি উত্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে বিরোধ চলাকালে হঠাৎ এক রাতে পুলিশ এসে অভিযোগকারীর ছোট ভাইকে আটক করে। পরে জানা যায়, নুরজাহানের করা একটি গাছ কাটার মামলায় দুই ভাইকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি করা হয়েছে। যদিও তারা এ মামলা সম্পর্কে পূর্বে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেন।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তারা জানতে পারেন, তাদের বৃদ্ধ মাকে মারধর করে অন্য এক বোনের জমিতে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে মামলার বিচার চলাকালে আদালত গাছের মালিকানা ও গাছের বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের পর্যবেক্ষণের পর মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।
মামলা খারিজ হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশে স্ট্যাম্প ও অঙ্গীকারনামায় সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং মা, ভাই ও বোনদের প্রাপ্য অংশ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
এদিকে গত মাসের ২৪ তারিখ অভিযোগকারীর মা মৃত্যুবরণ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, জীবদ্দশায় মাকে মারধরের ঘটনায় নুরজাহান ও তার স্বামী রতন কখনও ক্ষমা চাইতে আসেননি কিংবা তার দেখাশোনাও করেননি। মায়ের মৃত্যুর পর সম্পত্তির অংশ পাওয়ার আশায় তারা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
সর্বশেষ গত ১৯ জুন শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে নিজ রেকর্ডভুক্ত জমির পুকুরের পাড়ে নারিকেল গাছ পরিষ্কার করার সময় রতন ঢালী বাধা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
অভিযোগকারী বলেন, “কোনো বোনকে কম জমি দেওয়া হয়নি। তারপরও রতন ঢালী আমার, আমার মৃত ছোট ভাইয়ের, ছোট বোন রোকেয়ার এবং বিদ্যালয়ের জমি পর্যন্ত দখল করে নিয়েছেন। এখন আবার আমার রেকর্ডভুক্ত জমিতেও বাধা সৃষ্টি করছেন।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের এ পারিবারিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরজাহান ও রতন ঢালীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
