জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালীঃ
মাএ ১৪ বছরের কিশোর হাসান। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তারও ছিল স্বপ্ন, ইচ্ছা আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্খা। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা তার জন্য সহজ ছিলনা। প্রতিদিনের জীবনযাএায় প্রয়োজন হত বিশেষ সহায়তার।
হাসানের চলাফেরার কষ্টের কথা জানতে পেরে তার মা পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি হুইলচেয়ারের জন্য আবেদন করেন। একটি হুইল চেয়ার হয়তো অনেকের কাছে সাধারণ একটি সহায়ক উপকরণ :কিন্তু হাসানের কাছে এটি ছিল নিজের চলার পথে নতুন এক সম্ভাবনার দরজা।
বিষয়টি মানবিক বিবেচনা করে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড, মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করেন। তার নির্দেশনায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই হাসানের জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্হা করা হয়।
হুইলচেয়ারটি হাতে পাওয়ার মূহুর্তে হাসানের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক। তার সেই নির্মল হাসি যেন বলে দেয় -একটু সহায়তা কখনো একজন মানুষের জীবনে কতটা বড় পরিবর্তন আনতে পারে। পরিবারের সদস্যদের চোখেও তখন ছিল স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি।
হাসানের জন্য এই উদ্যোগ শুধু একটি হুইল চেয়ার নয়, এটি একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর চলার পথকে একটু সহজ করে দেওয়ার মানবিক প্রয়াস। একই সঙ্গে এটি প্রমান করে, সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে মানবিকতার সমন্বয় ঘটলে সাধারণ মানুষের জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভাব।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যােগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্হানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, সমাজের পিছিয়ে থাকা, অসহায় ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের পাশে ভবিষ্যতেও এভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
হাসানের মুখে এই ছোট্ট হাসিই যেন ছোট একটি বার্তা, মানুষ -মানুষের পাশে দাড়ালে কঠিন পথও কিছুটা সহজ হয়ে যায়।
