🔴 ব্রেকিং
বরিশালে বায়োগ্যাস প্লান্ট উদ্বোধন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট নওগাঁর মান্দা শ্রীরামপুর ঋষি পাড়া মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধারসহ পলিরানী নামে এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার দোহারে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’ অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী নামের আড়ালে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ক্ষুণ্ন হচ্ছে দলের ভাবমূর্তি!! তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান তথ্য কমিশনারের সাক্ষাৎ বরেণ্য সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভার আয়োজন বান্ধাবাড়িতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মাহবুব, লক্ষ্য মাদক মুক্ত সমাজ কুশলায় চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সবুজ ফকির, অগ্রাধিকার মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সৌদি আরবে রিয়াদ বিমানবন্দর চালুর আগে পুনরায় রাজধানীতে বিস্ফোরণ

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)-এর আধুনিকায়ন ও পরিচালনায় বৈশ্বিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড

👤 🕐 ✏️ আপডেট: 👁 51 বার পড়া হয়েছে ⏱ 7 মিনিট পড়তে হবে
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)-এর আধুনিকায়ন ও পরিচালনায় বৈশ্বিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড

 

কাজী আরিফ বিল্লাহ :চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আধুনিকায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)-এর জমি, অবকাঠামো, মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তথা বাংলাদেশ সরকারের অধীনে রেখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সরকারের মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ১৫ বছরের নির্ধারিত মেয়াদে টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ইনভেস্ট বাংলাদেশের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানের উপস্থিতিতে এই সময়াবদ্ধ অপারেশনাল কনসেশন চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের মান্যবর চেয়ারম্যান এসা কাজিম, বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের মান্যবর রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
সরকারের প্রতিনিধি, বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে চুক্তিটি সই হয়। চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের মান্যবর চেয়ারম্যান এসা কাজিম।
ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের অন্যতম বন্দর ও লজিস্টিকস অপারেটর। প্রতিষ্ঠানটি ৪০টির বেশি দেশে ৮০টির বেশি সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল পরিচালনা করে। বিশ্বের মোট কনটেইনার চলাচলের প্রায় ১০% হয় প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বন্দর পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

চুক্তি শেষে প্রেস ব্রিফিং আয়োজিত হয়। চুক্তির প্রধান দিকগুলো হলো:
১. মালিকানা ও মেয়াদ: এনসিটির মালিকানা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। অপারেটরকে প্রাথমিকভাবে ১৫ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে।
২. বিনিয়োগ ও সরকারের আয়: চুক্তির শুরুতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার অগ্রিম ফি (upfront fee) এবং প্রথম ১০ বছরে আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিতে ১,০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের অঙ্গীকার রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব ভাগ (revenue share) ও নির্ধারিত বার্ষিক ফি পাবে।
৩. ফলাফলভিত্তিক পরিচালনা: চুক্তিতে Key Performance Indicator (KPI), নিয়মিত প্রতিবেদন এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থা থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মনিটরিং, নিরীক্ষা ও নির্ধারিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তদারকি অব্যাহত রাখবে।
৪. নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব: নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ইমিগ্রেশন, কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থার নিরাপত্তা প্রটোকল আগের মতোই বলবৎ থাকবে। অপারেটর কেবল পরিচালনার অধিকার পাবে; জমি বা মূল সম্পদের মালিকানা নয়।
৫. স্থানীয় কর্মসংস্থান ও দক্ষতা: স্থানীয় কর্মসংস্থান অব্যাহত থাকবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের বন্দর ও লজিস্টিক খাতের দক্ষতা আরও বাড়বে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “সরকারের লক্ষ্য বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করা যাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, ডিজিটাল ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক লজিস্টিক সংযোগের মাধ্যমে এনসিটিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা যায়। আমাদের বৃহত্তর নীতিগত লক্ষ্য হলো বিভিন্ন টার্মিনালে একাধিক আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত করে সেবার মান ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সাপ্লাই চেইনে স্থিতিশীলতা আনা।”
ডিপি ওয়ার্ল্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান মাননীয় এসা কাজিম বলেন, “আমরা বাংলাদেশ সরকার ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এই পরিচালনা স্বত্ব প্রদানের জন্য। বাণিজ্য ও উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। দেশের এই অগ্রযাত্রায় সহায়তা করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার সেবা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সংযোগ আরও সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন হবে। আমাদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি এবং সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে লজিস্টিকস সেবা দেওয়ার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আমরা বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চাই।”
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের নৌ ও বাণিজ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করার অঙ্গীকারের প্রতিফলন এই অংশীদারত্ব। দেশের বাণিজ্য ও লজিস্টিকস ব্যবস্থায় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই চুক্তি টার্মিনালের পরিচালন দক্ষতা বাড়াবে, লজিস্টিকসের প্রতিবন্ধকতা কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার করবে। দেশীয় শিল্পের সহায়ক পরিবেশ তৈরি ও পণ্য পরিবহন আরও গতিশীল করার মাধ্যমে এই অংশীদারত্ব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আরও সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করবে।”

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য দেশের বাণিজ্যকে বৈশ্বিক গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে যুক্ত করা সেই লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ। বন্দরের এই গুরুত্বপূর্ণ পিপিপি উদ্যোগে সহায়তা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য প্রবেশদ্বারে আমরা আরও দ্রুত কার্যক্রম, শক্তিশালী সংযোগ ও উন্নত সেবার মান চাই। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বন্দরব্যবস্থাকে এমন সক্ষমতায় উন্নীত করতে চাই, যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাণিজ্য সম্প্রসারণের চাহিদা পূরণ করতে পারে।”
বন্দরে দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা
বৈশ্বিক বন্দর দক্ষতার সূচক ২০২৫ অনুযায়ী বিশ্বের ৪০০টি কনটেইনার বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৩৬৪তম, যার মূল কারণ দীর্ঘ কনটেইনার অবস্থানকাল (dwell time), জাহাজের বন্দর-অবস্থানকাল (port stay)। এর পাশাপাশি যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা ও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশের ভার বহনকারী চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা বা বছরে ৩,০০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কনটেইনার অবস্থানকাল মাত্র এক দিন কমানো গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৭.৪% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চারটি কনটেইনার হ্যান্ডলিং স্থাপনা চালু রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম এনসিটি। ২০০৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এই টার্মিনাল বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ সম্পন্ন করে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর/এনসিটিতে কনটেইনার অবস্থানকাল নয় দিনের বেশি, যেখানে তুলনীয় বন্দরগুলোতে তা দুই দিনের কম। জাহাজের বন্দর-অবস্থানকালও আড়াই দিনের বেশি, যেখানে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত বন্দরগুলোতে তা ১৫–২৪ ঘণ্টা।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড (CDDL) টার্মিনালটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে। উল্লেখ্য যে, পঞ্চম কনটেইনার টার্মিনাল হিসেবে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল উন্নয়ন করছে ডেনমার্ক-ভিত্তিক বৈশ্বিক অপারেটর এপিএম টার্মিনালস যা ২০৩০ সাল নাগাদ প্রস্তুত হবে।

শেয়ার করুন: 📘 Facebook 𝕏 Twitter
Mijanur Rahman
Mijanur Rahman
ক্রাইম পেট্রোল নিউজের সংবাদদাতা।
সব লেখা দেখুন →

💬 মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

f 📲 𝕏