সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার, কবির হোসেন দেওয়ান:
মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের নানা উদ্যোগ, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং জেলেদের জন্য খাদ্যসহায়তা হিসেবে চালের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা শুরুর মাত্র দুই-তিন দিনের মাথায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে অবৈধভাবে মাছ ধরার খবর অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
সরকার প্রতিবছর মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশের বংশবিস্তার ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের জন্য খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারে জড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
আমরা সভা-সমাবেশে বড় বড় কথা বলি, মা ইলিশ রক্ষার অঙ্গীকার করি; কিন্তু বাস্তবে নিজেরাই আইন অমান্য করি—এটাই আমাদের সমাজের অন্যতম বড় সমস্যা।
মনে রাখতে হবে, মা ইলিশ রক্ষা করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। আজ মা ইলিশ রক্ষা করতে পারলে আগামী দিনে নদীতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে, উপকৃত হবেন দেশের প্রকৃত জেলেরা এবং সমৃদ্ধ হবে জাতীয় মৎস্যসম্পদ।
তাই প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, মেহেন্দিগঞ্জের নদ-নদীতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হোক। একই সঙ্গে প্রকৃত জেলেদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করে অসাধু মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
আসুন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি, মা ইলিশ রক্ষা করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশের প্রাচুর্য নিশ্চিত করি।
