এইচ, এম আওলাদ
ক্রাইম রিপোর্টার
ক্রাইম পেট্রোল ইনভেস্টিগেশন
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
শিশু-কিশোরদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার বিকাশের পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং ইসলামিক সংস্কৃতিচর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে গোপালগঞ্জে জেলা পর্যায়ে জাতীয় শিশু-কিশোর ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সনদ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) গোপালগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, গোপালগঞ্জের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ-উজ-জামান। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, গোপালগঞ্জের উপপরিচালক আবু অবায়দা মোহাম্মদ মাস-উ-দুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম ফয়জুল বারী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থী, তাঁদের অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় সুধীজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে শিশু-কিশোরদের সুশিক্ষিত, নৈতিকতাসম্পন্ন ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ এবং মানবিক গুণাবলির বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শৈশব থেকেই এসব গুণের চর্চা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বক্তারা আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এ ধরনের প্রতিযোগিতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করে এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে। একই সঙ্গে ইসলামিক সংস্কৃতি, ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতেও এসব আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। জাতীয় শিশু-কিশোর ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শিশুদের নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা প্রকাশের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মতো গুণ অর্জনে উৎসাহিত হয়। অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতন অংশগ্রহণ শিশু-কিশোরদের এই বিকাশকে আরও গতিশীল করতে পারে বলেও আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনা পর্ব শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা। পুরস্কার গ্রহণের সময় বিজয়ীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা যায়। তাঁদের এ অর্জন ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের ইসলামিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকে জ্ঞান, আদর্শ ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
