নিজস্ব প্রতিবেদক :
পর্ব ১
জাতীয়তাবাদী পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থে চাঁদাবাজি বা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সংশ্লিষ্ট দলের ভাবমূর্তি, আদর্শ ও সাংগঠনিক মর্যাদার ওপর। জাতীয়বাদী নৌজান শ্রামিক দল এর সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানকে ঘিরে নৌযানে সিরিয়ালের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। জাতীয়তাবাদী নাম ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের কোন হাতিয়ার বা অনিয়মের অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়ার ঢাল হতে পারে না। দলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হলে দায় নির্ধারণে দলীয় নেতৃত্বকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।
অভিযোগ অনূসারে প্রায় ১৫টি কোম্পানির কাছ থেকে মাসে দুই লাখ টাকা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি শুধু নৌপরিবহন খাতের অনিয়মে সীমাবদ্ধ থাকবে না; দলের নাম ও পরিচয়ের অপব্যবহারের প্রশ্নও উঠবে। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা নিচ্ছেন কি না,মূল দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে তা তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া যেমন কাম্য নয়, তেমনি দলীয় পরিচয়ের আড়ালে অপরাধের অভিযোগও উপেক্ষা করা যায় না। জাতীয়তাবাদী আদর্শের মর্যাদা রক্ষায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াই দলের সুনাম রক্ষার কার্যকর পথ।
মুক্তারপুরের শাহ সিমেন্ট কারখানা ঘাট থেকে মেঘনা নদী পর্যন্ত জাহাজের সিরিয়াল ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়, কথিত মাসিক লেনদেন, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অনুমোদন এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা—সবকিছু স্বাধীনভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। মতিউর রহমানসহ অভিযোগে নাম আসা প্রত্যেকের বক্তব্য, প্রাসঙ্গিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মতামত যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
দলের নাম নয়, প্রমাণই হোক বিচারের ভিত্তি; রাজনৈতিক পরিচয় নয়, জবাবদিহিই হোক শেষ কথা।
প্রমাণসহ পরিপূর্ণ প্রতিবেদন জানতে হলে চোখ রাখুন আগামী পর্বে।
জাতীয়তাবাদী নামের আড়ালে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ক্ষুণ্ন হচ্ছে দলের ভাবমূর্তি!!
