🔴 ব্রেকিং
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর:কুটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ কোটালীপাড়ায় হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি শেখাতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি কোটালীপাড়ায় হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি শেখাতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি। বরিশালে বায়োগ্যাস প্লান্ট উদ্বোধন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট নওগাঁর মান্দা শ্রীরামপুর ঋষি পাড়া মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধারসহ পলিরানী নামে এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার দোহারে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’ অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী নামের আড়ালে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ক্ষুণ্ন হচ্ছে দলের ভাবমূর্তি!! তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান তথ্য কমিশনারের সাক্ষাৎ বরেণ্য সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভার আয়োজন

ইমাম রেজার মৃত্যুর ঘটনায় ইয়াহিয়া ও ছোটন খন্দকারকে জড়ানোর অভিযোগ, প্রতিবাদে মানববন্ধন নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

👤 🕐 ✏️ আপডেট: 👁 48 বার পড়া হয়েছে ⏱ 6 মিনিট পড়তে হবে
ইমাম রেজার মৃত্যুর ঘটনায় ইয়াহিয়া ও ছোটন খন্দকারকে জড়ানোর অভিযোগ, প্রতিবাদে মানববন্ধন  নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

 

এইচ, এম আওলাদ
ক্রাইম রিপোর্টার
ক্রাইম পেট্রোল ইনভেস্টিগেশন
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জে ১৮ বছর বয়সী ইমাম রেজার মৃত্যুর ঘটনায় ইয়াহিয়া খন্দকার ও ছোটন খন্দকারকে হত্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও দুই ভাইকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ সময় তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া ব্রিজসংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইয়াহিয়া খন্দকার ও ছোটন খন্দকারের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইমাম রেজার মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে তদন্তের আগেই কাউকে দায়ী করা কিংবা কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য ভোগান্তির কারণ হতে পারে। তাই তাঁরা বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
যেভাবে ইমাম রেজার মরদেহ উদ্ধার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ধানের মিলের ঘর থেকে ইমাম রেজা (১৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘরটির জানালার সঙ্গে বেল্ট দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে বৌলতলী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
তরুণ ইমাম রেজার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত একটি মানববন্ধনে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দেওয়া হয়। সেখানে করপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ইয়াহিয়া খন্দকার ও ছোটন খন্দকারের নামও উঠে আসে বলে দাবি করেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ইয়াহিয়া ও ছোটন খন্দকারের পরিবার এবং স্থানীয় এলাকাবাসী নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এ মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
চাকরিতে থাকার দাবি, প্রমাণপত্র উপস্থাপনের কথা পরিবারের
মানববন্ধনে ইয়াহিয়া খন্দকার ও ছোটন খন্দকারের বোন ডালিম খন্দকার বলেন, তাঁর ভাই ইয়াহিয়া খন্দকার ঢাকায় শেলটেক প্রাইভেট লিমিটেডে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ঘটনার দিনও তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। ডালিম খন্দকারের ভাষ্য, তাঁর ভাইয়ের কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের সময়সংক্রান্ত বিভিন্ন রেজিস্টার এবং প্রমাণপত্র গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাইদের ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা হত্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ইমাম রেজা নামের ১৮ বছর বয়সী ছেলেটিকে আমরা চিনিও না, জানিও না। তারপরও আমার ভাইদের নাম কেন এ ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।” তিনি আরও বলেন, ইমাম রেজার মৃত্যুতে প্রকৃতপক্ষে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে তাঁর ভাইদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোও যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানান তিনি।
ডালিম খন্দকার বলেন, তাঁরা কোনো অপরাধীকে আড়াল করতে চান না। বরং প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ্যে আসুক এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। এ জন্য প্রশাসন ও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর
এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন করপাড়া ইউনিয়নের রহিস মুন্সী। তিনি বলেন, ইয়াহিয়া খন্দকার ও ছোটন খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চাকরি করেন এবং নিয়মিত এলাকায় অবস্থান করেন না বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, ইমাম রেজার মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
রহিস মুন্সী বলেন, “ইমাম রেজার মৃত্যুর সঙ্গে কারা জড়িত, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনা হোক। যদি কেউ অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন।” তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা জরুরি। এ সময় তিনি দুই ভাইকে জড়িয়ে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদ জানান এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায়সংগত তদন্তের দাবি তোলেন।
প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, ইমাম রেজার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগের ভিত্তিতে কারও সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তদন্তের দাবি জানান। তাঁদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ থাকলে তা পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে তাঁরা এ ঘটনায় কোনো ধরনের হয়রানি বা অযাচিত চাপ সৃষ্টি না করে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান। এদিকে ইমাম রেজার মৃত্যুর ঘটনায় ইয়াহিয়া খন্দকার ও ছোটন খন্দকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা কিংবা ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা জানতে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন: 📘 Facebook 𝕏 Twitter
Mijanur Rahman
Mijanur Rahman
ক্রাইম পেট্রোল নিউজের সংবাদদাতা।
সব লেখা দেখুন →

💬 মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

f 📲 𝕏