🔴 ব্রেকিং
কোটালীপাড়ায় পিঞ্জুরী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন মেরিন একাডেমিতে ভর্তি ও দক্ষ নাবিক তৈরিতে কোনো কম্প্রোমাইজ নয় :নৌপরিবহন সচিব স্বামীর স্বীকৃতি পেতে দশমিনায় তরুনীর অনশন দশমিনায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন,বর্ণাট্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা নওগাঁর সাত প্রবাসীর দীর্ঘ আড়াই মাস পরে মৃতদেহ ফিরছে , ঋণের বোঝা নিয়ে দিশাহারা পরিবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়েছে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ জাপান থেকে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ঝিনাইদহের সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুসহ দুই জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি,জামিন না মঞ্জুর উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক ফরিদুল আলমের সরকারি চাকরির আড়ালে কোটি টাকার সম্পদ—উঠছে নানা প্রশ্ন ৫ বছরে এক কোটি দক্ষ কর্মী তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

মাদক নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদনঃ খাগড়াছড়িতে মাদকের বিস্তার জামিনে বেরিয়ে আবারো মাদকরাজ্যে অপ্রতিরোধ্য!!!

👤 🕐 ✏️ আপডেট: 👁 102 বার পড়া হয়েছে ⏱ 10 মিনিট পড়তে হবে
মাদক নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদনঃ খাগড়াছড়িতে মাদকের বিস্তার জামিনে বেরিয়ে আবারো মাদকরাজ্যে অপ্রতিরোধ্য!!!

শিব ব্রত চক্রবর্ত্তী (বিশেষ প্রতিনিধি )
***************************
২০২০ সালের ১০ই ডিসেম্বর এর ঘটনা। অভিযান চালিয়ে এক কেজি হেরোইনসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে র্যব। মাদক কারবারি গুইমারা উপজেলার বাসিন্দা।এর আগেও তার বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা ছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে ওই মাদক কারবারি। মামলাটি বর্তমানে খাগড়াছড়ি বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন ।প্রায় আড়াই বছর আগে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও ১০ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র দুজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বারবার সমন জারির পরও বেশীরভাগ সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। বর্তমানে আসামিও নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেনা। ফলে মামলাটি বছরের পর বছর ঝুলে আছে। এমন চিত্র শুধু একটি নয়। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন আদালতে হাজার মাদক মামলা বছরের পর বছর বিচারাধীন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুয়ায়ী, খাগড়াছড়ির আদালতে বর্তমানে ৩ হাজারের অধিক মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অধীন বিভিন্ন আদালতে ১২০০টি, দায়রা জজ আদালতে ৭০০টি, এবং বিভিন্ন আদালতে আর ১০০০টি মাদক মামলা বিচারাধীন। এছাড়া ও ট্রাইব্যুনালেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। খাগড়াছড়িতে মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিন দিন জোরদার হচ্ছে। প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও দেশীয় মদ। গ্রেপ্তার হচ্ছে মাদক কারবারি ও সেবীরা। তবে এসর অভিযান তেমন কাজে আসছেনা।পূলিশের দাবী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া অনেক আসামিই অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অনেকাংশেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুত্র বলছে ,মাদক নির্মূলে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
ওই সুত্র জানায়, বিশেষ অভিযান সব সময় অব্যাহত রয়েছে।এই বিশেষ অভিযানে শুধু মাদক নয় অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক , চোরাচালান পন্য উদ্ধারের পাশাপাশি জিআর,সিআর ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে থাকা মুলতবি গ্রেফতারী পরোয়ানা ও কার্যকর করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ ও আসামি গ্রেপ্তার করা হলেও দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া, সাক্ষীদের অনুপস্থিতি, মামলার জট এবং সহজে জামিন পাওয়ার সুযোগের কারণে অনেক অভিযুক্ত আবারও মাদক কারবারে ফিরে আসছেন। ফলে মাদক নির্মূলে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছে না। তাদের মতে, পুলিশের অভিযানের পাশাপাশি দ্রুত বিচার, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা এই তিনটি একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলেই মাদকের বিরুদ্ধে টেকসই সাফল্য অর্জন সম্ভব।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার (ডিএসবি) খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুত্র জানায় খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সারাদেশের মতো মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। জেলা পুলিশের উদ্যোগে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। এসব অভিযানে নিয়মিত মাদক কারবারিদের আটক করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জরিমানাও করা হচ্ছে।’
সুত্র জানায়, ‘পুলিশের দায়িত্ব আসামিদের আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। শাস্তি প্রদান সম্পূর্ণ বিচার বিভাগের বিষয়। তবে অনেক আসামি অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আসামিরা কীভাবে দ্রুত জামিন পাচ্ছে, সেটি আদালতের বিষয়। ওই সুত্র আরো জানায়,’ থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। ফলে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান দিন দিন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। মাদক বিক্রেতাদের চিহ্নিত করে তাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করেছে জেলা ডিএসবি পুলিশ। তালিকা বিশ্লেষণ করে তাদের অবস্থান ও গতিবিধি নির্ধারণের পর সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে আটক করা হচ্ছে।’
কিছু কিছু আসামিদের বিরুদ্ধে ডজন খানেক মামলা থাকার পর ও তারা কিভাবে আদালত থেকে জামিন পাচ্ছে প্রশ্নের জবাবে ওই সুত্র জানায়, কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে ৭-৮টি পর্যন্ত মাদক মামলা রয়েছে। তবুও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে যাচ্ছে। কারা জামিনের যোগ্য বা অযোগ্য, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা বিচার বিভাগের রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, তারা যদি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকে অথবা দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়ে শাস্তির মুখোমুখি হয় তাহলে পুনরায় এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা কমবে।’ বলে ও জানায় ওই সুত্র।
সামাজিক ভাবেও আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। মাদক বিক্রেতাদের সচেতন করতে সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিলে সমাজে মাদক বিক্রেতার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে এভাবেই সমাজ থেকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় মাদক নির্মূল করা সম্ভব’, বলেন খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক পুলিশ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার দৃঢ় শর্তে ওই কর্মকর্তা মাদক নির্মূলে নিজেদের উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেন, বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছি, যাতে যেসব সীমান্তপথ নিয়ে মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করে, সেগুলো কার্যকরভাবে চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করা যায়। পাশাপাশি মাদকদ্রবা নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যারা মাদক কারবারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এই অবৈধ পেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার অফিস সুত্র জানায়, ‘আমরা মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করছি। কিন্তু তারা খুব দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’
সুত্র জানায় ‘কারও বিরুদ্ধে ৫-১০টি, আবার কারও বিরুদ্ধে তার ও বেশি পর্যন্ত মাদক মামলা রয়েছে। মাদক মামল্যর আইনি কাঠামো যদি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মতো আরও কঠোর হতো এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যেত, তাহলে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিন দিন আরও কঠোর করা হচ্ছে বলে জানায় খাগড়াছড়ি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সুত্র। ওই সুত্র জানায়, খাগড়াছড়ি জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলা জুড়ে যারা মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন, তাদের অনেকেরই বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে তারা মাদক কারবার থেকে সরে এসে অন্য পেশায় যুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে মাদকের বিস্তার কমবে এবং মাদকসেবীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে।
সুত্র জানায়, ‘অনেকেই মাদকাসক্তি থেকে বেরিয়ে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেষ্টা করে। কিন্তু পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের অভাবে আবারও একই পথে ফিরে যায়। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে নতুন কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে আইন আগের তুলনায় আরও কঠোর করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হ্লা ওয়াচিং মারমা ও প্রদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, ‘কোনো ব্যক্তিকে মাদকদ্রব্যসহ হাতেনাতে আটক করা হলে আইন অনুযায়ী ১৫-২১ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার করার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তারা এই সময়সীমা মেনে চলেন না। ফলে মাদক মামলায় অভিযোগপত্র বা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। পাশাপাশি যেসব পুলিশ সদস্য মামলার সাক্ষী হিসেবে থাকেন, তাদের অনেকেই বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় বিচার কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়। করোনাভাইরাস মহামারির সময় প্রায় দুই বছর ধরে বিচার কার্যক্রমে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো
পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি বলে জানান এই আইনজীবীরা। তারা বলেন, ‘মাদক মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনজীবী, বিচারক এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ তিন পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
স্থানীয়দের মতে, কেবল পুলিশি অভিযান চালিয়ে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ।
এদিকে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের দাবি , মাদক কারবারিদের পেছনে থাকা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে। মাদক নির্মূল করতে হলে দল-মত নির্বিশেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে ।
স্থানীয় সমাজনেতাদের মতে, প্রতিটি পরিবারকে তাদের সন্তানদের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের কোনো ছাড় না দিয়ে নিয়মিত অভিযান জোরদার করার দাবি ও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের মতে, কেবল পুলিশি অভিযান চালিয়ে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ। এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় বন্ধ করা, পারিবারিক সচেতনতা ও তরুণ দের সম্পৃক্ততা , প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান করার প্রতি জোরালো মতামত দেন স্থানীয়রা । মাদকের এই মরণব্যাধি সমাজ থেকে উপড়ে ফেলতে হলে সুধী সমাজ, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাদক প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেছেন।
উল্লেখ্য যে,খাগড়াছড়িতে মাদকের ছড়াছড়ি বেশি হওয়ার প্রধান কারণ মূলত ভৌগোলিক অবস্থান, দীর্ঘ দুর্গম সীমান্ত এলাকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির সীমাবদ্ধতা। পার্বত্য এই জেলাটি ভারতের সাথে দীর্ঘ ও দুর্গম সীমান্ত দিয়ে যুক্ত থাকায় এটি মাদক চোরাচালানের একটি অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট বা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
খাগড়াছড়িতে মাদকের বিস্তার বেশি হওয়ার মূল কারণগুলোর মধ্যে ভৌগোলিক ও দুর্গম সীমান্ত অবস্থানের কারনে যেমন খাগড়াছড়ির রামগড়সহ বিভিন্ন উপজেলার একটি বড় অংশ ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তের সাথে যুক্ত। পাহাড় ও ঘন জঙ্গলঘেরা এই দীর্ঘ সীমান্তের অনেক এলাকা এখনো অরক্ষিত বা কাঁটাতারহীন।
যার সুযোগ নিয়ে চোরাকারবারিরা সহজেই ভারতীয় মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল এবং মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসে।
আঞ্চলিক কোন্দল ও অবৈধ অর্থের উৎস তথা পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় কিছু পাহাড়ি সশস্ত্র বা আঞ্চলিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তার এবং তাদের অবৈধ তহবিল সংগ্রহের জন্য মাদক ব্যবসাকে অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে বিভিন্ন স্থানীয় অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এছাড়া বেকারত্ব ও তরুণদের সংশ্লিষ্টতা যেমন জেলাটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় স্থানীয় বেকার যুবকদের একটি বড় অংশ খুব সহজেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। প্রথমে অল্প বয়সী বা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণদের মাদক সেবনে অভ্যস্ত করানো হয় এবং পরবর্তীতে মাদকের টাকা জোগাড় করতে তারা নিজেরাই এর বাহক বা বিক্রেতা হয়ে ওঠে। বিদ্যমান রয়েছে পাহাড়ি অঞ্চলের কৌশলগত সুবিধা খাগড়াছড়ির গভীর পাহাড়ি অরণ্য। পাহাড়ি রাস্তাগুলোর কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে সর্বত্র নিয়মিত টহল দেওয়া বা অভিযান চালানো বেশ কঠিন। চোরাকারবারিরা এই ভৌগোলিক প্রতিকূলতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দুর্গম পাহাড়ে মাদকের আস্তানা বা হাট গড়ে তুলেছে।

শেয়ার করুন: 📘 Facebook 𝕏 Twitter
Mijanur Rahman
Mijanur Rahman
ক্রাইম পেট্রোল নিউজের সংবাদদাতা।
সব লেখা দেখুন →

💬 মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

f 📲 𝕏